Categories
শিক্ষা

নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিন – অন্যের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিবেন না

মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার

আমরা যখন কোন কঠিন বিষয়ের মুখোমুখি হই,কোনো কাজের সমাধান করতে দিশেহারা হয়ে পড়ি, তখন আমাদের প্রয়োজন হয় সৎ পরামর্শের। পরবর্তী সিদ্ধান্ত যেনো সঠিক হয় তার জন্য কতো চিন্তাই না করি। জীবনের একটা সময় আমরা বন্ধু বান্ধবী বড়ভাই শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বাড়াই। একটা সময় আসে যখন আপনি নিজেই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু যখন পরামর্শ পাওয়াটাও অসম্ভব হয়ে পড়ে তখন কী করার থাকে? তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই একটা বিরাট ব্যাপার এবং তার উপরই নির্ভর করে সফলতা।

যতো পারেন পড়ুন
কাজের সময় ছাড়া যতটা পারেন বই পড়ুন। একটি বই শেষ হয়ে গেলে পরেরটি শুরু করুন। বিভিন্ন পরামর্শমূলক বই পড়ুন। এতে আপনি যেকোনো পরিস্থিতিতে তার সমাধান বের করতে পারবেন।

একটি বিষয়ের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি
একটি বিষয় নিয়ে কয়েকজন মানুষের সঙ্গে কথা বললে দেখবেন কয়েকটি দৃষ্টিভঙ্গি বের হয়ে এসেছে। অর্থাৎ একই বিষয়ে নানা চিন্তাধারা রয়েছে। একেক জন একেক মত প্রশন করছে নিজের মধ্যে কোনটি ধারণ করবেন তা পরের বিষয়। কিন্তু শিখতে হলে সব ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি জানার ও নিজে চিন্তা করে বের করার চেষ্টা করুন।

উদার হোন
সফলতার দেখা পেতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হলে মনটাকে খোলামেলা রাখতে হবে এবং সবকিছু সহজভাবে গ্রহণ করতে হবে। অনেক কিছুই পরিকল্পনা মাফিক চলবে না তা একান্ত স্বাভাবিক বিষয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত বদলাতে হতে পারে এবং অনকে বেশি ঝুঁকি নিতেও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিতে হবে সহজভাবে। সাধারণ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ না হলে সেই পথ ক্লোজ করুন ভিন্নপথ অবলম্বন করুন।

নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিন
সব সমস্যা আপনার একার এবং তা আপনাকে একাই সামলাতে হবে। তাই শেষ সিদ্ধান্তটি আপনারই। মনের কথা শুনুন, আপনার মন কি বলে সে অনুযায়ীই কাজ করুন। এতে ভালো কিছু হোক বা না হোক সিদ্ধান্ত তো আপনার।

প্রতিটি মানুশ স্বতন্ত্র
জীবনে চলার পথে অনেক সময় আমাদের পরিস্থির চাপে সমঝোতা করতে হয়। কিন্তু তা করতে গিয়ে নিজেকে অসম্মান করা নিজের চিন্তা চেতনার বলি দেওয়া একদম উচিত হবে না। প্রতিটি মানুষ একে অপর থেকে আলাদা। আর আছে তাদের ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য, ভিন্ন ভিন্ন গুণ যা তাদেরকে অন্যদের চাইতে আলাদা করে। সবসময় মনে রাখা উচিত যে আপনি নিজে যদি নিজেকে প্রাপ্য যোগ্য মনে না করতে পারেন, তবে অন্যেরা কীভাবে আপনাকে যোগ্য মনে করবে?

সহমত প্রকাশ করা
অন্যদের মতের সাথে যদি আপনার নিজের মত মিল থাকে, তবে তা সমর্থন করতে পারেন। কিন্তু যদি আপনার মতবিরুদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা ক্ষমতা দেখে অন্যদের কথার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করা মানে আপনি নিজেকে দুর্বল মনে করছেন। অন্যের ভয়ে নিজের মত প্রকাশ করতে পারছেন না। এতে আপনি নিজেকেই নিজে অসম্মান করছেন এবং আপনার শক্ত ভিত হতে দুরে সরে যাচ্ছেন।

সবাইকে হ্যাঁ বলা
একজন মানুষের পক্ষে সবার কাছে ভাল হয়ে থাকা সম্ভব নয়।সবার সঙ্গে ভাল হয়ে চলাটা নিজের ক্ষেত্রেই কখনও কখনও বিপজ্জনক হতে পারে। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে খালি অন্য কারোর চোখে ভাল হতে গিয়ে হয়তো আপনি কোন কাজে হ্যাঁ বলেছেন। আর এটি করে আপনি নিজেকে অসম্মান করছেন। নিজের সময়, নিজের শ্রমকে মূল্য দিন। অতিরিক্ত কিছু করতে গিয়ে নিজেকে নিজের কাছে ছোট করা থেকে বিরত থাকুন।

অন্যের কথামত মেনে চলা
আপনি কি নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারেন না? অন্যের কথা শুনে চোখ বন্ধ করে তা বিশ্বাস করে নিজে যাচাই না করেই কাজ করেন, এটি কখনই ঠিক নয়। এর অর্থ হল আপনার নিজস্ব মতামত নেই, আপনার নিজের উপর বিশ্বাস নেই। অন্য কেউ আপনাকে ব্যবহার করতে পারে সে সুযোগ আপনিই তাদের করে দেন। এটা করে আপনি নিজেই নিজের উপর আস্তা হারাচ্ছেন।

অভিনয় করা
কখনও কখনও সুবিধা পাওয়ার জন্য আমরা এমন কিছু করি যা আমাদের স্বভাববিরুদ্ধ। আমরা যা নই তা হবার অভিনয় করি। যাতে অন্যদের চোখে ভাল হতে পারি, এবং অন্যদের কাছ থেকে প্রশংসা পেতে পারি। কিন্তু এতে আপনি নিজেকেই অসম্মান করছেন। কারণ আপনি যেমন, তেমনভাবে নিজেই নিজেকে গ্রহণ করতে পারছেন না। তাহলে অন্যেরা কীভাবে গ্রহণ করবে?

নিজের মতো হাসি-খুশি থাকা
এটি মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। যখন জীবনের সবকিছু নিজের পরিকল্পনা মত হয়ে থাকে, তখন মানুষ সবচেয়ে বেশি সুখী থাকে। কিন্তু জীবন সবসময় আপনার ইচ্ছা মত চলবে না। এর মাঝে ব্যর্থতা আসবে। জীবনকে অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে গ্রহণ করুন। যেখানে সফলতা আছে, সেখানে ব্যর্থতা আছে। কোন কাজে ব্যর্থ হলে, হতাশ হয়ে নিজের প্রতি বিশ্বাস হারাবেন না। যেকোন পরিস্থিতিতে নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন।

আবেগ লুকিয়ে রাখা
যা মনের মধ্যে রয়েছে তা সবার সামনে প্রকাশ করুন। কে কী মনে করল তা নিয়ে চিন্তা করা বন্ধ করুন। অন্যের কথা চিন্তা করে নিজের আবেগকে অবহেলা করবেন না। যদি কেউ আপনাকে অপমান করে বিড়াম্বনায় ফেলে তবে পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই করুন। আপনি ভীতু বা কাপুরুষ নন প্রমাণ করুন।

নিজের কথা ভাবুন…
নিজের কথা চিন্তা করা মানুষকে স্বার্থপর বলে থাকি। কিন্তু জীবনে কখনও কখনও নিজের কথা চিন্তা করতে হয়। আপনি যখন নিজের কথা না ভেবে শুধুমাত্র অন্যদের খুশি কথা খেয়াল রাখেন, তবে নিজেকে অবহেলা করা হবে। আপনার ভাল লাগা- খারাপ লাগা তাদের কাছে গুরুত্ব পায় না। তাই বাকিদের কথা ভাবার সাথে সাথে নিজের কথাও ভাবুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.