Categories
উদ্ভাবন, কম্পিউটার, শিক্ষা

দেশেই রকেট ও স্যাটেলাইট তৈরি এবং উৎক্ষেপণে নতুন এক উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ভবিষ্যতে দেশেই রকেট ও স্যাটেলাইট তৈরি এবং উৎক্ষেপণে নতুন এক উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।রোববার বাণিজ্যিকভাবে মহাকাশ জীবনের উপযোগী বিভিন্ন মডিউল তৈরি করতে তিনটি সমঝোতা চুক্তি করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যারোস্পেস অ্যান্ড এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় ।একটি চুক্তি ব্রিজ টু বাংলাদেশ(বিটুবি) এর সঙ্গে, দ্বিতীয়টি পিকো স্যাটেলাইট এবং তৃতীয়টি অ্যাসপায়ার টু ইনোভেশন (এটুআই)-এর সঙ্গে।

লালমানিরহাটে অবস্থিত দেশের প্রথম মহাকাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন রেজিস্ট্রার এয়ার কমোডর মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল মাহবুব।বিটুবি’র হয়ে চুক্তিতে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আজাদুল হক। আর পিকো স্যাটেলাইট ল্যাব নিয়ে চুক্তিতে সই করেন প্রফেসর ড. নাজমুল উলা। এছাড়া গবেষণা সহায়তায় এটুআইয়ের পক্ষে সই করেন ইনোভেশন ল্যাবের হেড অব টেকনোলজি ফারুক আহমেদ জুয়েল।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যারোস্পেস অ্যান্ড এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস রাজধানীর তেজগাঁও পুরাতন বিমান বন্দরে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যোগ দেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।অনুষ্ঠানে পলক বলেন, দেশের মেধাবী তরুণরাই তৈরি করবে পূর্ণাঙ্গ স্যাটেলাইট ।তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আরবান প্লানিং, আর্লি ফ্লাড ডিটেকশনের জন্য দেশে অনেক অনেক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে আজকে যে এমওইউ হলো তা অবজারভেটরি স্যাটেলাইটসহ পিকো, ন্যানো স্যাটেলাইট এগুলো উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করবে ।পিকো স্যাটেলাইট প্রকল্পের মাধ্যমে মঙ্গলগ্রহসহ অন্যান্য উপগ্রহে জনবসতি গড়ে তুলতে এই সমঝোতা স্মারক কাজে লাগবে উল্লেখ করে পলক জানান, বাংলাদেশে উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম ও উদ্যোক্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছে।তিনি এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যারোস্পেস অ্যান্ড এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।

রকেটের প্রকল্পটিতে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন আজাদুল হক। তিনি নাসার একজন সাবেক প্রকৌশলী এবং বর্তমানে ম্যাক্সগ্রুপের পাওয়ার ডিভিশনের সিইও।আজাদুল হক টেকশহর ডটকমকে জানান, বিটুবি’র সহায়তায় মডেল রকেট ডিজাইন , নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যারোস্পেস অ্যান্ড এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় একটি মডেল রকেটারি ইকো সিস্টেম তৈরির পরিকল্পনা করছে।‘মডেল রকেট বানানো ছাড়া আইনকানুন মেনে নিরাপদে কীভাবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি মডেল রকেট উৎক্ষেপণ করতে পারে সেজন্য বিভিন্ন স্তরের সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা করা এর উদ্দেশ্য। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লালমনিরহাটের ক্যাম্পাস কীভাবে সহজে রকেট উৎক্ষেপণ করা যায় তার প্রস্তুতিও এই প্রকল্পে থাকবে’ জানান তিনি।বিটুবি’র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও বাংলাদেশ ইনোভেশন ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুল হাসান অপু টেকশহর ডটকমকে বলেন, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে মহাকাশ প্রযুক্তি বিষয়ে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পেলো তরুণরা। এই উদ্যোগ মহাকাশ গবেষণা ও উদ্ভাবনে মাইলফলক হয়ে থাকবে।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলছেন, পিকো স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্যাটেলাইট তৈরি করার সক্ষমতা অর্জন করবে ।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য এয়ার ভাইস মার্শাল মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শাহজাহান মাহমুদ, বিটুবি’র উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং এটুআইয়ের নীতি উপদেষ্টা আনীর চৌধুরী ।


 

Leave a Reply

Your email address will not be published.