Categories
blog, উদ্ভাবন, শিক্ষা

একটা সময় ছিল যখন শিক্ষা নামক মৌলিক অধিকার কেবল উচ্চবিত্তদের দখলে থাকত। ধীরে ধীরে সময় বদলেছে, শিক্ষার আলো ছড়িয়েছে দিকে দিকে। কিন্তু শিক্ষার আলোয় আলোকিত কিছু মানুষ এখনও তাদের ধ্যান-ধারণায় কিছু অযৌক্তিক বিষয় জিইয়ে রেখেছেন।

তাদের ধারণা, দেশে পেশা বলতে শুধু ডাক্তারি আর ইঞ্জিনিয়ারিংই ভালো। তাই যে কোনো মূল্যে তাদের সন্তানদের হতে হবে ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার। প্রশ্ন হচ্ছে, এই মানসিকতা কেন? এর সহজ উত্তর হতে পারে- ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা। সেক্ষেত্রে ডাক্তার আর ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া অন্যান্য পেশাদার মানুষ কি তবে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে?

  • বিষয়টা এমন নয়। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে সবকিছুরই প্রসার ঘটছে। প্রযুক্তির বিকাশে আমরা জেনে গেছি, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াও দেশে আরও অনেক পেশা আছে আর তাতে শুধু নিশ্চিত ভবিষ্যৎই নয়, আছে জীবন বদলে ফেলার অপার সম্ভাবনা।

এখন একজন ভিডিও মেকার ঘরে বসেই আয় করতে পারে। একজন ফ্রিল্যান্সার খুঁজে নিতে পারে তার পছন্দসই কাজ। তাহলে কেন আমরা হতাশার মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছি? সৃজনশীল কাজে আমাদের আগ্রহ বাড়াতে হবে। সৃজনশীল কাজে যাদের আগ্রহ, তাদের অপার সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছে পৃথিবী। সৃজনশীল কাজে আছে যেমন ব্যক্তিস্বাধীনতা, তেমনি আছে নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ!

আজ যে শিশুটির জন্ম হল, সে জানে না আগামী চার-পাঁচ বছরের মাথায় তার কাঁধে উঠে যাবে একটি ভারি ব্যাগ। তাকেও দৌড়াতে হবে জীবন নামক প্রতিযোগিতার মঞ্চে। নিজের ইচ্ছা আর আগ্রহকে বিসর্জন দিয়ে ছুটতে হবে কোচিং থেকে কোচিংয়ে একটি গোল্ডেন এ পাওয়ার জন্য। দিনশেষে কোনো কোনো শিক্ষার্থী হয়তো নিজেকে আবিষ্কার করবে ‘যন্ত্রমানব’ রূপে।

কেন এ প্রতিযোগিতা? শুধুই কি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য? আমাদের তরুণদের ভেতর থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে ইচ্ছাশক্তি। এবার প্রশ্ন করা যাক বাবা-মায়ের কাছে, আপনারা কি কখনও জানতে চেয়েছেন আপনার ছেলেটি সত্যিই ডাক্তার হতে চায় কিনা? আপনার মেয়েটি ভালো ছবি আঁকে, তাকে কখনও কি ভরসা দিয়ে বলেছেন, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে না চাইলে চারুকলায় পড়তে পার? আসলে আমরা সবাই জীবনে সফলতা চাই।

আর তাই চেষ্টা করি বড় কোনো পেশাকে পুঁজি করে সে সফলতাকে ছুঁতে। এখন প্রশ্ন, আমরা সফলতা বলতে কী বুঝব? বড় ডিগ্রি নেয়ার পর বড় কোনো চাকরি? কিন্তু এ গতানুগতিক ধারা ছাড়াও মানুষ সফল হয়।

আমরা কেন ভেবে নেব, কাউকে সফল হতে হলে তাকে অবশ্যই বড় ডিগ্রিধারী হতে হবে? একজন চা বিক্রেতাও তো সফল হতে পারে, যদি গতকালের তুলনায় আজ তার চা বিক্রি পাঁচশ’ টাকা বেশি হয়! নামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বড় ডিগ্রি নিয়েছে বলে তাকে বড় চাকরিই করতে হবে, অন্য কিছু করতে পারবে না- এমন মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন।

আমরা আমাদের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে এমন কিছু করতে পারি যাতে নিজেরা উপকৃত হব, সমাজ উপকৃত হবে, দেশ উপকৃত হবে। সেটাই হবে আমাদের সফলতা। আমাদের সামনে একটা অসামান্য ভুবন অপেক্ষা করছে।

আমরা হাজার হাজার কাজের মধ্য থেকে খুঁজে নিতে পারি পছন্দের কাজ। যে কাজ আত্মতৃপ্তি দেবে, আমরা সেই কাজই করব। কোনো কাজই ছোট নয়, যদি তাতে প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর আগ্রহ থাকে। সৃজনশীল মানুষ কখনও থেমে থাকে না।

এসএম নূরনবী সোহাগ : © প্রাবন্ধিক

Leave a Reply

Your email address will not be published.