Categories
শিক্ষা

উদ্ভাবনী সেটা আবার কী?
আসলে আজ থেকে প্রায় ৫ বছর আগে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ৩৭ তম বিজ্ঞান মেলায় ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অংশ গ্রহণ করে বিজয়ী হয়ে উনি  অনেক সমস্যা লক্ষ্য করেন। আসলে সেটি একটি আইডিয়া জন্ম নিয়েছিল উনার মাথায় আইডিয়াটি / সমস্যা টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষকরা শুধু বিজ্ঞান মেলা বা সপ্তাহ আসলেই হটাৎ করে বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তৎপর হয়ে উঠেন, পূর্ব কোন প্রস্তুতি তো থাকেই না তখন স্যারা বলেন যে তোমাদের মধ্যে কে কে বি জ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক আমার সাথে যোগাযোগ করু।তখন যদি কোন বি জ্ঞান মনস্ক পাগল তাকে তবে সে উঠে দাড়িয়ে বলে, আমি আছি,, না হয় প্রতিষ্ঠানটি মনে করে ঝামেলা থেকে বাঁচা গেল,, কারন টাকা দিতে হবে,, প্রজেক্টের কাজ করতে হবে যে,, কিন্তু এই সময় অনেক উদ্ভাবক যারা কাজ করে তারা প্রতিষ্ঠানের টাকার কথা চিন্তা না কেরেই কাজ শুরু করে এবং এতো কম সময়ে ভাল কি তৈরি করতে চায় কিন্তু এতো কম সময়ে কি ক্রিয়েটিভ চিন্তা কি মাথায় আসে না আসে না,,, এতে সহযোগীতা করে,, ইউটিউব মামা” ইউটিউব দেখতে দেখতে কিছুটা ভানাবার চেষ্টা করে,,,কিন্তু সেই ও ভাল হতো যদি তারা সারা বছর এই ধরনের ওয়ার্কশপ, ইভেন্ট ও কার্যক্রমপ যুক্ত থাকতে পারে প্রতিষ্ঠাতার মনে হলো তারা নতুন উদ্ভাবন নিয়ে চিন্তা করতে গবেষণা করতে,,, এবং আবিষ্কার করতে পারবে। কিন্তু তার আসলে বি জ্ঞান মেলার বা বিজ্ঞান সপ্তাহে তিনদিন আগে থেকে দুই দিন পর পর্যন্তই তাদের ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান মনস্ক ও আবিষ্কার নিয়ে কাজ করে। তার পর কিন্তু ঐ উদ্ভাবক গুলোও কিন্তু একদিন হারিয়ে যায় এবং বাংলাদেশ একটি উদ্ভাবনের সম্ভাবনা ও হারিয়ে যাচ্ছে, তাই ঐ সমস্যা থেকেই আজকের এই উদ্ভাবনী জন্ম। তার পর থেকেই প্রতিষ্ঠাতার শিক্ষক ও বন্ধুদের নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা মাধ্যমে উদ্ভাবনীর যাত্রাপথ শুরু ২০১৭ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে ২০১৯ -০১-০৩ তারিখে থেকে।

তখন আমাদের  ভাবনা ছিল  একটা এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব যেখানে কাজ করবে হাজারো শিক্ষার্থী তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়াই স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশের আগামী ভবিষ্যৎ। সেই ২০১৭ সাল থেকে গুটি গুটি পায়ে আজ আমরা চলেছি হাজারো স্বপ্ন নিয়ে। ২০১৭ সালের ১১ জন সদস্যদের সেই ছোট্ট ক্লাবটি আজ ২০০০+ সদস্যের এক বিশাল পরিবার। সেই ২০১৭ সাল থেকে এই ক্লাবটি ৫ বার উপজেলা,৫ বার জেলা পর্যায়ে এবং ২ বার বিভাগীয় পর্যায়ে এবং সর্বশেষ জাতীয় পর্যায়ে ৪র্থ হয়ে এখন পর্যন্ত ১৫ বার জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের আওতায় পুরষ্কার বিজয়ী আমাদের এই  ক্লাবটি। এবং ক্লাবের সহযোগীতায় শত শত স্কুল, কলেজে ও শিক্ষার্থী বিভিন্ন ইভেন্টের মধ্যে জয়েনিং হওয়ার সুযোগ ও বিজয়ী হয়ে হবিগঞ্জ জেলার নাম উজ্জ্বল করেছে।   এবং আজ আমাদের এই ক্লাবের গবেষকরা ইন্টারন্যাশনাল পর্যায়ে তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাচ্ছে। সব মিলিয়ে ৫০ টিরও বেশি পুরষ্কার বিজয়ী আমাদের এই ক্লাবটির। যার স্বপ্ন শুধু হবিগঞ্জকে নিয়ে  নয়  বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে রিপ্রেসেন্ট করা। আজ সেই স্বপ্ন কে বাস্তবে রুপ দিতে এবং রুপকল্প ৩০-৪১ বাস্তবায়নে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়  কাজ করে যাচ্ছে হাজারো ক্রিয়েটিভ ক্ষুদে বিজ্ঞানী।

এখন পর্যন্ত উদ্ভাবনী আয়োজন করেছে ২০টির ও  বেশি Event যেখানে(দশ ১০) হাজারের ও বেশি স্বপ্নময়ী ক্ষুদে বিজ্ঞানী অংশগ্রহণ করে তাদের অবদান রাখছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে এবং তাদের মেধাকে উদ্ভাসিত করেছে আমাদের এই ২০১৭ এর খুদে ক্লাবের মাধমে। অনেকেই ক্লাবে আসত আর বলত যে ক্লাবে লাভ টা কী? কী হবে ক্লাব করে? উদ্ভাবনী আমায় কি দিবে?  আজ তারাই আমাদের অনুপ্রেরনায় কাজ করে একেকজন হয়ে উঠেছে একেকজন উদ্ভাবক, ক্ষুদে বিজ্ঞানী,স্বপ্নময়ী পথিক ও আগামীর ডিজিটাল বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। আমরা তাদের চিন্তাকে গবেষণার মাধ্যমে আবিষ্কার পর্যন্ত পোঁছাতে কাজ করে যাচ্ছে,,  ২০১৭ -২০২০ সাল পর্যন্ত  অনেক বাঁধা এসেছিল কিন্তু তারা দমিয়ে রাখতে পারেনি আমাদের দুর্বার গতির উদ্ভাবনী কে কার ভাল কাজে বাঁধা তাকবেই তাকতে হবেই, নয় তো গতি ভারে না । আজ শত বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে  আমরা হাজারো পরিবারের সদস্য যা আগামীর কোটি পরিবার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। যেখানে কাজ করছে হবিগঞ্জ জেলার প্রায় ৩০০ টির ও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাকও শিক্ষার্থী এবং  বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার উপজেলার ক্ষুদে বিজ্ঞানী ও গবেষক। এবং আমাদের সাথে রয়েছেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়,জেলা প্রশাসন,বুয়েট,ডুয়েট,শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। তাই আজ অনেক বাঁধা পেরিয়ে আমরা উদ্ভাবনীর উদ্ভাবক। আজ ২০২১ সালে আমরা বলতে পারি উদ্ভাবনী সফল, উদ্ভাবনীর সকল উদ্ভাবক সফল।
উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব
“এটি একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক বিজ্ঞান শিক্ষা উন্নয়ন মূলক প্রতিষ্ঠান।”
বর্তমানে যারা প্রাথমিক – মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ে ২০৪১ সালে তারাই বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন খাতে নেতৃত্ব দিবে। আজকের শিশু প্রজন্মকে আমরা যেভাবে গড়ে তুলবো, ২০৪১ সালে জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ সেভাবেই গড়ে উঠবে। আমরা অনুকরণ করে নয়, উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বড় করতে চাই।

২০১৭ থেকে বর্তমান পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরও শিকক্ষদের নিয়ে কাজ করছে.. যেটি হবে ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ ” চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে সারা বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ভবিষ্যৎ নেতা তৈরি করার জন্য একটি বিজ্ঞান  শিক্ষার উন্নয়ন মূলক  প্রতিষ্ঠান।

🇧🇩 আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?🇧🇩

আমরা চাইছি বাংলাদেশে নতুন নতুন চিন্তা করার সংস্কৃতি তৈরি হোক। নতুন নতুন উদ্ভাবন বের হয়ে আসুক। কেননা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কাজের সমন্বয় হলেই কেবল যেকোনো কাজের সফলতা আসে।

আমাদের মূল পরিকল্পনা হলো সারা বাংলাদেশে তরুণদের মাঝে উদ্ভাবনী চিন্তার বার্তা ছড়িয়ে দেয়া। প্রতিটি ভালো কাজের পেছনে ইনোভেশন জড়িত। আমাদের তরুণদের একটা ইনোভেশন যদি ক্লিক করে তবে আমাদের দেশ হয়তো সেটাতেই সুনাম অর্জন করতে পারে। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আমরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইনোভেশন কালচার ছড়িয়ে দিতে পরিকল্পনা নিয়েছি। আমাদের সঙ্গে এখন যে তরুণরা কাজ করছে তারাই পরবর্তী সময়ে মেন্টর হচ্ছে। এই মেন্টররা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে তরুণদের উদ্ভাবনী আইডিয়া জাগ্রত করতে কাজ করবে। বিজ্ঞানী হিসেবে গড়ে উঠবেই ইনশাআল্লাহ।
www.udvabonibd.org

#i_love_udvaboni #Udvabonibd #UBC
#Innovation
#DigitalBangladesh

Leave a Reply

Your email address will not be published.